ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি সেবা ও শিশুদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সহায়তার আওতায় থাকবেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনা করা শিশুরা।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী পুষ্টি সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে এ সহায়তার ঘোষণা দেয়। কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপরও চাপ বাড়ছে।
ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারে। অন্যদিকে পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুদের স্কুলের দিনগুলোতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এর ফলে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডব্লিউএফপির সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও এই সহায়তার আওতায় রয়েছে।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য।
ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংস্থাটির মধ্যে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অংশীদারত্ব রয়েছে। ১৯৬৪ সাল থেকে দুই পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে নগদ অর্থ ও পণ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ ৫০ লাখ ডলারের অবদানের ফলে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে।